নদী যে শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়, সেই শহরের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার নদী। অথচ অনেক জায়গায় নদীর পাড় আবর্জনা আর অবৈধ দখলে ঢেকে যায়। পাড় ফিরিয়ে এনে সবুজে সাজালে নদী আবার মানুষের হয়ে ওঠে।
কেন জরুরি
- পাড়ে গাছ ও ঘাসের শিকড় মাটিকে ধরে রাখে, ফলে ভাঙন কমে।
- পাড়ে হাঁটার পথ ও বসার জায়গা হলে পরিবার ও প্রবীণদের বিকেলের গন্তব্য তৈরি হয়।
- আবর্জনা ফেলা বন্ধ হলে পানির মান ও মাছের আবাস ভালো হয়।
- স্থানীয় নৌকা, চা-দোকান ও ছোট ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।
কীভাবে করা যায়
- নদীর সীমানা, দখল ও দূষণের উৎস চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে মানচিত্র আকারে জানানো।
- পাড় ঘেঁষে নর্দমার সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে পরিশোধনের ব্যবস্থা করা।
- ভাঙনপ্রবণ অংশে দেশি গাছ, বেত, কাশ ও ঘাস লাগানো।
- পাড়ে পাকা ঘাট, হাঁটার পথ, বসার বেঞ্চ ও আলো রাখা — কিন্তু পুরো পাড় কংক্রিটে না ঢাকা।
- পাড় রক্ষায় স্থানীয় ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ‘নদী প্রহরী’ দল গঠন করা।
কিশোরগঞ্জের জন্য ভাবনা
কিশোরগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদীর কোন অংশ সবচেয়ে বেশি দখল-দূষণে আক্রান্ত, তার একটি নাগরিক জরিপ করা যেতে পারে। জরিপের ভিত্তিতে একটি ছোট অংশ বেছে নিয়ে প্রথম পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব।
আপনি কী করতে পারেন
নদীর যেখানে আবর্জনা বা দখল দেখছেন, জায়গার নাম ও ছবিসহ ‘সমস্যা’ হিসেবে পোর্টালে জানান।
পোর্টালে আপনার কথা জানানছবি: ওয়াচ টাওয়ার থেকে নরসুন্দা নদী ও লেকসিটি, কিশোরগঞ্জ — আলোকচিত্রী: Rafyrahmn, লাইসেন্স: CC BY-SA 4.0, উৎস: উইকিমিডিয়া কমন্স। সব ছবির সূত্র